ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৭/০৩/২০২৩ ১০:২৬ এএম
রাতের রোহিঙ্গা ক্যাম্প

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের অস্থিরতার নেপথ্যে রয়েছেন শতাধিক রোহিঙ্গা। ছিনতাই, ডাকাতি থেকে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা, ধর্ষণ কিংবা খুন সব অপরাধে ঘুরেফিরে আসছে তাদের নাম।

সম্প্রতি আগুনসহ অস্থিরতায়ও উচ্চারিত হচ্ছে তাদের নাম। যদিও অপরাধী রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে সরকারি সব সংস্থা কাজ করছে এমন দাবি প্রশাসনের।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নিয়ে সম্প্রতি চট্টগ্রাম সফরকালে পুলিশের আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সেখানকার পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ, এপিবিএন, র‌্যাব, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, ট্রিপল আরসিসহ সবাই মিলে কাজ করছি। অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এমন নয় যে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে অপরাধের স্বর্গরাজ্য বলাই শ্রেয়। এখানে অস্ত্র ও মাদকের কারবার, মানব পাচার, সামান্য কথা কাটাকাটি হলেই খুন, অপহরণ, ডাকাতি, আধিপত্য বিস্তারের মহড়া, যৌন নির্যাতন, অবৈধ সিম-বাণিজ্য, জমি দখল, হুন্ডি, জাল টাকার কারবার, ধর্ষণ এখন নিত্য অপরাধ। এসব ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন শতাধিক রোহিঙ্গা। এরই মধ্যে তাদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, কক্সবাজারের ৩৪টি রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে সক্রিয় রয়েছে ছোট-বড় অর্ধশতাধিক অপরাধী গ্রুপ। এর মধ্যে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), ইসলামী মাহাজ এবং জমিয়তুল মুজাহিদীনের মতো উগ্রপন্থি সংগঠন যেমন রয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে অন্যান্য সন্ত্রাসী গ্রুপও।

এ সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা, মানব পাচার, প্রতারণা, অপহরণ, খুনসহ সব ধরনের অপরাধ কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আধিপত্য বিস্তার এবং সংঘাতে জড়িয়ে পড়া ক্যাম্পে সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে অপরাধের নেপথ্যে শতাধিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। চিহ্নিত ব্যক্তিরাই খুন, অপহরণ, ছিনতাই, ডাকাতি, ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগ, অস্ত্র, মাদক ব্যবসাসহ সব ধরনের অপরাধের নেপথ্য হোতা হিসেবে কাজ করছে।

তাদের একেকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে।

চিহ্নিত অপরাধীদের মধ্যে রয়েছেন ২ নম্বর ক্যাম্পের মৌলভি আয়াছ, কলিমউল্লাহ, জাহিদ মোহাম্মদ ফরিদ, ইউসুফ, জামাল; ৪ নম্বর ক্যাম্পের আরমান, বাইল্লা, মুছা, সানাউল্লাহ, সালাম, ছলিমউল্লা, মৌলভি শামছু, কলিমউল্লাহ হোসেন, ফরিদ, ইউছুফ, জামাল, আবদুল মালেক, আবদুল হালিম, মাস্টার সাইফ; ৭ নম্বর ক্যাম্পের আবদুল আইয়াছ উদ্দিন, হাফেজ, কেফায়েত উল্লাহ, হয়দার ক্যাম্পে ভুট্টু আবদুল্লাহ, ওস্তাদ খালেক মাস্টার এনাম, হাবিবুল্লাহ, সাব (ক্যাম্পের উপপ্রধান) সৈয়দুল আমিন, শাহ আলম, কালা মিয়া, হোসেন আহাম্মেদ, মৌলভি নুরুল আমিন, নুর সাফা, লিয়াকত এহসান উল্লাহ, মাস্টার মুন্না, শামসুল আলম, মো. জাফর, মুছা, জাবেদ, মাস্টার দিল মোহাম্মদ, নবী হোসেন, নুরুল আমিন, ইসলাম, নুর কামাল, জাফর আলম; ১১ নম্বর ক্যাম্পের আলী জহুর, মৌলভি জাহিদ হোসেন, ইয়াছির আরাফাত, লাভু, আহসান উল্লাহ, হোসেন জহুর, আয়াত উল্লাহ; ১২ নম্বর ক্যাম্পের জানে আলম, মো. জাবেদ, ইউনুস, আয়াস, মো. হোসেন; ১৭ নম্বর ক্যাম্পের সিরাজ, এনাম মাস্টার, হোসেন, ইলিয়াছ, নূর, হাসিম মৌলভি হামিদ হোছন, নূর বশর, সেলিম, মাস্টার ফারুক আবদুর ছবি, হাফেজ আয়াছ, লতিফ আলী, মাঝি সাইফুল্লাহ, ওসমান আহম্মদ, আইয়ুব ও মোহাম্মাদ রফিক। এ ছাড়া ক্যাম্পে কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে মাস্টার মুন্না গ্রুপ, ডাকাত হাকিম গ্রুপ, জাবু গ্রুপ, ইসলাম গ্রুপ, জকির গ্রুপ অন্যতম

পাঠকের মতামত

ইনানীতে রিসোর্টে আগুন: মালিক ও ম্যানেজারসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় চারজনের নাম ...

উখিয়ার শ্মশানভূমি নিয়ে বিতর্কসরকারি রেকর্ড ও আদালতের নথি সামনে এনে পরিচালনা পরিষদের বক্তব্য

কক্সবাজারের উখিয়া সদরের দারোগা বাজার কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর ও জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের ...

চলে গেলেন ঢাবি-জবি-ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ পরিবারের ৬ জন

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ ...